মাতৃ শিক্ষা

মাতৃ শিক্ষা

মাতৃ শিক্ষা
প্রতিটা সন্তানের জীবনে মায়ের নিকট থেকে পাওয়া শিক্ষা অনেক গুরুত্বের সাথে কাজ করে। মানব জীবনে পারিবারিক শিক্ষা অনেক প্রভাব বিস্তার করে। একজন শিক্ষিত মা পারে তার সন্তান কে সঠিক শিক্ষা দিয়ে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। তাই আজ আমরা এমন একটি গল্প তুলে ধরছি যা থেকে একজন মেয়েকে তার পরবর্তী জীবন এ ভালো মানুষ হিসেবে জীবন ধারনে সহায়তা করে।

চট্টগ্রাম একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তো সুমি । একমাস আগেই দু’পরিবারের মধ্যে আলোচনার মধ্য দিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায় তার। বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি বেড়াতে আসলে মা খুব আগ্রহ ভরে জানতে চায়, ঐ বাড়িতে তার কেমন লেগেছে ?
কিছুটা গম্ভীর মুখে মাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে জবাবে বলে-
“আমার ওখানে ভালো লাগেনা। মানুষগুলো কেমন যেন। পরিবেশটাও আমার ভালো লাগছেনা”।

মেয়ের ভেতর এক ধরনের হতাশা দেখতে পায় তার মা। দেখতে দেখতে কয়েকদিন কেটে যায়। মেয়ের চলে যাবার সময় চলে আসে। চলে যাবার ঠিক আগের দিন মা তার মেয়েকে নিয়ে রান্না ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর একটি পাতিলে পানি দিয়ে তা গরম করতে থাকেন। ফাঁকে ফাঁকে সংসারের নানান খুটিনাটি গল্প চলছিলো মা- মেয়ের ।
একসময় পাতিলের পানি ফুটতে থাকলে মা হাড়িতে আলু, ডিম আর কফির বিন দেন। এভাবে বিশ মিনিট পর মা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। তারপর একটি বাটিতে আলু, ডিম এবং কফির বিন নামিয়ে রাখেন। সুমি অবশ্য একটু অবাক চোখে ব্যাপারটা লক্ষ করলেও মায়ের নির্দেশে চুপ থাকে।
এবার মা মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “
তুমি এখান থেকে কি কিছু বুঝতে পারলে ?
মেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে- “ আমি দেখলাম তুমি আলু, ডিম আর কফির বিন সিদ্ধ করলে মাত্র, কিন্তু আমি জানিনা এসব দিয়ে কি রান্না করা যায় ! বিস্ময় গলায় মেয়ে জিজ্ঞেস করে এতদিন তো দেখিনি এমন অদ্ভুত রেসিপি ।

মেয়ের বিস্ময় চোখের দিকে তাকিয়ে এবার মা বললেন-“ হ্যাঁ, তুমি ঠিকই দেখেছ। তবে তুমি কি আর কিছু লক্ষ্য করনি?”
মেয়ে বলে- “ নাতো – মা,”।
কিছুটা থেমে গভীর স্নেহে মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে মা বলতে শুরু করেন –
“ শোন মা,আলু মোটামুটি শক্ত ধরনের, ডিম খুব হালকা শক্ত ভঙ্গুর আর কফির বিন খুবই শক্ত। কিন্তু যখন এগুলিকে গরম পানিতে রাখা হল তখন তিনটি জিনিসের তিন রকম অবস্থা হল। আলু খুব নরম হয়ে গেল, আর ডিম শক্ত হয়ে গেল আর কফির বিন সুন্দর ঘ্রান আর মিষ্টি স্বাদে পানিতে মিশে গেল”।

মেয়ে হ্যাঁ সুচক মাথা নেড়ে জানালো, ‘ এতটুকু বুঝেছি, গলায় উদ্বেগ, কিন্তু কেন ?

মা এবার দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে কিছুটা উদাসী গলায় জানালেন, আমি তোমাকে এখন যে কথাগুলো বলব, সে ভাবনাটা আমার জীবন থেকে নেয়া। তোমার মতই একান্নবর্তী এমন একটি পরিবারে আমি নতুন বৌ হিসেবে যখন এসেছিলাম, তখন অনেক কিছুই মেনে নিতে দারুণ কষ্ট হচ্ছিলো। তাই বলে কি, সংসার ছেড়ে দিতাম ?
আমি জানিনা কথাগুলি তোমার কতটুকু উপকারে আসবে, তবে আমার জীবনকে অনেক প্রভাবিত করেছিল”।
মা কিছুক্ষন বিরতি দিয়ে বলতে লাগলেন- “তুমি যদি তোমার স্বামীর বাড়িতে নিজেকে কঠিনভাবে উপস্থাপন কর তবে, প্রতিকূল পরিবেশের সাথে তোমার সংঘর্ষ হবে এটাই নিয়ম – তোমাকে দুর্বল করে ঠিক আলুর মতই নরম করে ফেলবে তারা, তোমার ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলবে একটা সময় । আর যদি তুমি নিজেকে নরম-ভঙ্গুর করে উপস্থাপন কর তবে প্রতিকূল পরিবেশ তোমাকে অক্টোপাসের মত গিলে ফেলবে , আঘাতের পর আঘাত এসে তোমার হৃদয়কে একসময় কঠিন করে ফেলবে ঠিক ডিমের মত।

কিন্তু তুমি যদি তোমার ভালবাসা দিয়ে নিজেকে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে মিশিয়ে দিয়ে তার অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পার তবে পরিবেশ সুন্দর হয়ে উঠবে। ঠিক যেমন কফির বিন গরম পানির সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে পানিকে সুস্বাদু আর চারপাশকে মিষ্টি ঘ্রানে ভরিয়ে দিয়েছে”।

গল্পের শেষটা এখানেই নয়, বরং গল্পের শুরুটা এখান থেকেই। পরের দিন যখন মেয়েটি তার স্বামীর বাড়িতে যাচ্ছিল তখন তার ভিতর এক আশ্চর্য শান্ত ভাব আর এক দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ পাচ্ছিল।”
আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি সবসময় অনুকুল থাকবে এমন প্রত্যাশা বুকে চেপে রাখা আসলে ঠিক নয়। বরং যেকোন বৈরি পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে পথ চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে ছোটবেলা থেকেই। প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখে নিজেকে কাবু না করে বরং র্ধৈয্য, ভালবাসা, সহমর্মিতা নিয়ে পরিস্থিতিকেই কাবু করতে হবে। সুখ সবসময় নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।

গল্পের শিক্ষা এখানেই —

(গল্পটি বিদেশি গল্প থেকে অনুবাদ কৃত)

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

এই পোস্টটিতে 2 টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Avatar Jone Guha says:

    Dada golpota kub sundor. Ai rocom golpo proti din lekban. Opki takbo. Valo takban.

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology