মমতাময়ী মা

মমতাময়ী মা

মা
পৃথিবীতে সবচেয়ে মমতাময়ী হল মা। মা তার জীবনের বিনিময়ে হলেও সন্তান কে সুখে রাখতে চায়। কিন্তু কখন সন্তানকে তা বুজতে দিতে চায়না। আজ আমরা একটা মায়ের জীবনের একটা গল্প তুলে ধরছি…………

এক মা তার জীবনে অনেক কষ্টে তার ছেলে কে বড় করল। ছেলে যখন বড় হল তখন তাকে বিয়ে করিয়ে একটা পুত্রবধু আনল ভাবছিল ছেলে বউ নিয়ে সুখে থাকবে। কিন্তু তা হল না।  তার  এক চোখ অন্ধ আর এক পা নেই বলে ঠিক ভাবে কাজ করতে পারেনা। এজন্য  পুত্রবধূর গালি সকাল বিকাল। কখনও ডাইনি, কখনও একচোখি-লেঙড়ি (খুঁড়া), বুড়ি ইত্যাদি। একমাত্র আদরের সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সংসারে পড়ে আছে জননী মা। ছেলে না পারছে মাকে সান্তনা দিতে, না পারছে বউকে বুঝাতে।

বউয়ের চাপে একদিন নতুন বাসায় রওনা দেয় ছেলে, একা বাসায় মাকে ফেলে। ভ্যানে উঠার আগে ছেলের হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে মা বলে, বাসায় নিয়ে খুলবি। বাসায় এসে খুলে দেখে মায়ের গয়না আর কিছু টাকা, স্লি­পে লেখা কম বেতনের চাকরি, কি খাবি বাবা ? এগুলো বিক্রি করে যা পাবি খরচ করিস, আর যে খামটা দিলাম, আমি না বলা পর্যন্ত খুলবি না।

ছেলে চিন্তাও করে না, আমার বৃদ্ধা মা একা ওই বাসায় কেমন করে থাকবে। সপ্তাহ পার না হতেই ছেলের মোবাইলে প্রতিবেশীর ফোন। তোমার মায়ের ঘরের দরজা ২ দিন থেকে বন্ধ। ছেলে এসে দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়। ভেঙে ভেতরে ঢুকেই দেখে মায়ের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। দাফন শেষে হতভাগা ঘরে ফিরে মায়ের দেওয়া খামটি খুলে। লেখা রয়েছে, ‘আমি অন্ধ বলে খোড়া বলে তোর বউ আমাকে কানি-লেঙড়ি নানা ভাষায় বকা দিত, রাত করে বাসায় ফিরে তোর সময় হয় না আমার খবর নেওয়ার, কি খেলাম কেমন আছি ! আজ বলি শোন, তোর বয়স তখন তিন বছর। তুই নানার বাড়ির পাশে বড় সড়কে উঠে গিয়েছিলি, অমনি ট্রাক আসতে দেখে আমি দৌড়ে তোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই, কিন্তু আমার ডান দিকটা চাপা পড়ে যায়। আমার ডান পা কেটে ফেলা হয় আর ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তবু তো বাবা তোর কিছু হয়নি। আমি মরে গেলেই তো তুই বেঁচে যাবি বাবা। ভালো থাকিস বাবা  আমি আর থাকতে পারলাম না।’

কথায় আছে, ‘সন্তান যখন ঘরের বাইরে বিপদে পড়ে যায়, কাক-পক্ষিও না জানিতে আগে জানে মায়।’ আরও বলা হয়, ‘নারী ছেড়া ধন, করিয়া যতন বড় যে করে, তার সামনে টোকা দিতে শয়তান ও ডরে!’ চিল সহজেই মুরগি বাচ্চাকে ছোঁ মেড়ে নিয়ে যেতে পারে না। দুই পাখায় আগলে রাখে। গরু-মহিষ, সিংহ-বাঘসহ সব পশুরাই তার সন্তানকে বুকে আগলে রাখে, যেন তার সন্তান শত্রুর কবলে না পড়ে। সৃষ্টির সেরা মানুষ তথা মমতাময়ী মা তার সন্তানকে কে ও ঠিক সে ভাবে আগলে রাখে।

আমারা সন্তানরা কেমন হয়ে যাচ্ছি  আজকের এ সমাজে মার কথা ভুলে যাই। তাই সবার প্রতি অনুরোদ একবার হলে ও চোখ বন্ধ করে আপনার ছোটবেলা আর মার কথা ভাবুন। তাহলে বুঝতে পারবেন মা কি আপনার জীবনে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology