প্রথম অধ্যায়- অর্জুনবিষাদ যোগ

প্রথম অধ্যায়- অর্জুনবিষাদ যোগ

ধৃতরাষ্ট ও সঞ্জয়

সঞ্জয় ধৃতরাষ্টকে যুদ্ধ বর্ণনা করছেন

 ধৃতরাষ্ট উবাচ-
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুত্সবঃ ।
মামকাঃ পান্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয় ।। ১

অর্থ-ধৃতরাষ্ট জিজ্ঞাসা করলেন হে সঞ্জয় ধর্মক্ষেত্রে যুদ্ধ করার মানসে সমবেত হয়ে আমার পুত্র এবং পান্ডুর পুত্ররা তারপর কি করলেন।
সঞ্জয় উবাচ-
দৃষ্টা তু পান্ডবানীকং ব্যুঢ়ং দুর্যোধনস্তদা ।
আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ ।। ২

অর্থ-সঞ্জয় বললেন হে রাজন পান্ডবদের সৈন্য সজ্জা দর্শন করে রাজা দুর্য্যধন দ্রোনাচার্য্যের কাছে বললেন।
পৈশ্যতাং পান্ডুপুত্রাণামাচার্য মহিতীং চমুম্‌ ।
ব্যুঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা ।। ৩

অর্থ-হে আচার্য্য পান্ডবদের মহান সৈন্য দল দর্শন করুন যা আপনার অত্যন্ত বুদ্ধিমান শিষ্য দ্রুপদের পুত্র অত্যন্ত দক্ষতার সংঙ্গে ব্যুহের আকার রচনা করেছেন।
অত্র শূরা মহেষ্বসা ভীমার্জুনসমা যুধি ।
যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশচ মহারথাঃ ।। ৪

অর্থ-সে সমস্থ সেনাদের মধ্যে অনেকে ভীম এবং অর্জুনের মত বীর ধনুর্ধারী রয়েছেন এবং যুযুধান বিরাট ও দ্রুপদের মত মহাযোদ্ধা রয়েছেন।
ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশিরাজশ্চ বীর্য্যবান্ ।
পুরুজিং কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ ।। ৫

অর্থ-সেখানে ধৃষ্টকেতু চেকিতান কাশিরাজ পুরুজিৎ কুন্তিভোজ এবং শৈব্যের মত অত্যন্ত বলবান যোদ্ধারাও রয়েছেন।
যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বির্যবান্ ।
সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব এব মহারথাঃ ।। ৬

অর্থ-সেখানে রয়েছেন অত্যন্ত বলবান যুধামন্যু প্রবল পরাক্রামশালী উত্তমৌজ,শুভদ্রার পুত্র এবং দ্রৌপদীর পুত্রগন এই সব যোদ্ধারা সকলেই এক একজন মহারথী।
অস্মাকন্তুু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম ।
নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থম তান্ ব্রবীমি তে ।। ৭

অর্থ-হে দ্বিজত্তম আমাদের পক্ষে যে সমস্ত বিশিষ্ট সেনাপতি সামরিক শক্তি পরিচালনার জন্য রয়েছেন আপনার অবগতীর জন্য আমি তাদের সম্বন্ধে বলছি।
ভবান্ ভিষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ ।
অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ সৌমদত্তির্জয়দ্রথঃ ।। ৮

অর্থ-সেখানে রয়েছেন আপনার মতোই ব্যক্তিসম্পন্ন-ভীষ্ম কর্ন কৃপ অশ্বত্থমা বিকর্ন এবং সোমদত্তের পুত্র ভূরিশ্রবা যারা সর্বক্ষেত্রে সর্বদা সংগ্রামে বিজয়ী থাকেন।
অন্যে চ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ ।
নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ ।। ৯

অর্থ-এছারা আর বহু নায়ক রয়েছেন আমাদের জন্য তাদের জীবন ত্যাগ করতে প্রস্তুত। তারা সকলেই নানা প্রকার অস্ত্র শস্ত্র সজ্জিত এবং তারা সামরিক বিজ্ঞান বিশারদ।
অপর্যাপ্ত তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম্ ।
পর্য্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম্‌ ।। ১০

অর্থ-আমাদের সৈন্যদল অপরিমিত এবং আমরা পিতামহ ভীষ্মের দ্বারা পুর্নরুপে সুরক্ষিত কিন্তু ভীমের দ্বারা সতর্ক ভাবে সুরক্ষিত পান্ডবের শক্তি সিমিত।
অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবসথিতাঃ ।
ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্তুু ভবন্তঃ সর্বে এব হি ।। ১১

অর্থ-এখন আপনারা সকলে নিজ নিজ গুরুত্তপুর্ন স্থানে সমর সেনাসজ্জায় স্থিত হয়ে পিতামহ ভীষ্মকে পুর্ন সাহয্য করুন।
তস্য সঞ্জনয়ন হর্ষং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহঃ ।
সিংহনাদং বিনদ্যোচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্মৌ প্রতাপবান্ ।। ১২

অর্থ-তখন কুরু বংশের বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম দুর্য্যধনের হর্ষ উত্পাদনের জন্য সিংহের গর্জ্জনের মত অতি উচ্চনাদে তার শঙ্খ বাজালেন।

ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পনবানকগোমুখাঃ ।
সহসৈবাভ্য হন্যন্ত স শব্দতুমুলোহভবৎ ।। ১৩

অর্থ-তারপর শঙ্খ ভেরী পনক আনক ঢাক এবং গোমুখ সিংঙ্গা সমুহ হঠাৎ একত্রে ধনিত হয়ে এক তুমুল শব্দের সৃষ্টি হল।
ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈযুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ ।
মাধবঃ পাণ্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্মতুঃ ।। ১৪

অর্থ-অন্যদিকে শ্বেত অশ্বসমুহ যুক্ত একদিব্য রথে স্থিত শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন উভয়ে তাদের দিব্য শঙ্খ বাজালেন।
পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ ।।অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণ
পৌন্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ ।। ১৫

অর্থ-তখন শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্য নামক তার শঙ্খ বাজালেন।এবং অর্জুন বাজালেন তার দেবদত্তক নামক শঙ্খ এবং বিপুল ভোজন প্রিয় ভীমকর্মা সেন বাজালেন পৌন্ড্র নামক তার ভয়ঙ্কর শঙ্খ।
অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ ।
নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমনিপুস্পকৌ ।। ১৬
কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখন্ডী চ মহারথঃ ।
ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চা পরাজিতঃ ।। ১৭
দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে ।
সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান দধ্মুঃ পৃথক পৃথক্ ।। ১৮

অর্থ-কুন্তীপুত্র মহারাজ যুধিষ্ঠির অনন্ত বিজয় নামক শঙ্খ বাজালেন, এবং নকুল এবং সহদেব বাজালেন সুঘোষ এবং মনিপুস্পক নামক শঙ্খ। হে মহারাজ তখন মহান ধনুর্ধর কাশিরাজ, প্রবল যোদ্ধা শিখন্ডি,ধৃষ্টদ্যুম্ন, বিরাট এবং অপরাজিত সাত্যকি, দ্রুপদ দ্রৌপদীর পুত্রগন, সুভদ্রার মহা বলবান পুত্র এবং অন্য সকলে তাদের নিজ নিজ পৃথক শঙ্খ বাজালেন।
স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়াৎ ।
নভশ্চ পৃথিবীঞ্চৈব তুমুলোহভ্যনুনাদয়ন্ ।। ১৯

অর্থ-শঙ্খ নিনাদের সেই শব্দে আকাশ বিদীর্ন হল। পৃথিবী কম্পিত হল এবং তার ফলে ধৃতরাষ্টের হৃদয় প্রবল ভয়ে বিধ্বস্ত হল।
অথ ব্যবস্তিতান্‌ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্ কপিধ্বজঃ ।
প্রবৃত্তে শস্ত্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পান্ডবঃ ।
হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে ।। ২০

অর্থ-সেই সময় পান্ডু পুত্র অর্জুন হনুমান চিহ্নিত পতকা শোভিত রথে অধিষ্ঠিত হয়ে তার ধনুক তুলেনিয়ে শ্বরনিক্ষেপ করতে প্রস্তুত হলেন। হে মহারাজ ধৃতরাষ্টের পুত্রদের সমর সজ্জায় বিন্স্ত দেখে হৃষীকেশকে অর্জুন তখন এই কথাগুলি বললেন।
অর্জুন উবাচ-
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেহচ্যুত ।
যাবদেতান্ নিরীক্ষেহহং যোদ্ধুকামানবস্থিতান্ ।। ২১
কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন রণসমুদ্যমে ।। ২২

অর্থ-অর্জুন বললেন হে অচ্যুৎ অভ্রান্ত বন্ধু, তুমি উভয়ে পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে আমার রথ স্থাপন কর, যাতে আমি দেখতে পারি যুদ্ধ করার অভিলাষি হয়ে কারা এখানে এসেছে এবং আমাকে অস্ত্রধারন করে কাদের সঙ্গে এই মহা সংগ্রাম করতে হবে।
যোত্স্যমানানবেক্ষেহহং য এতেহত্র সমাগতাঃ ।
ধার্তরাষ্টস্য দুর্বুদ্ধের্যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ ।। ২৩

অর্থ-অমি দেখতে চাই ধৃতরাষ্টের দুর্বুদ্ধি সম্পন্ন পুত্রদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য কারা এখানে যুদ্ধ করতে এসেছে।
সঞ্জয় উবাচ-
এবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত ।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম্‌ ।। ২৪

অর্থ-সঞ্জয় বললেন হে ভারত বংশধর অর্জুন কতৃক এইভাবে আদিষ্ট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ সেই উত্তম রথটি চালিয়ে নিয়ে উভয়ে পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে রাখলেন।
ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাঞ্চ মহীক্ষিতাম্‌ ।
উবাচ পার্থ পশ্যৈতান্‌ সমবেতান্ কুরূনিতি ।। ২৫

অর্থ-ভীষ্ম দ্রোন প্রমুখ পৃথিবীর অন্য সমস্থ নেতাদের সামনে ভগবান হৃষীকেশ বললেন হে পর্থ এখন সমস্ত কৌরবদের দেখ।
তত্রাপশ্যৎ স্থিতান্ পার্থঃ পিতৃনাথপিতামহান্ ।
আচার্যান্ মাতুলান্ ভ্রাতৃন্ পুত্রান্ পৌত্রান্ সখীংস্তথা ।
শ্বশুরান্‌ সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি ।। ২৬

অর্থ-তখন অর্জুন উভয়ে দলের মধ্যে পিতৃব্য, পিতামহ, আচার্য্য মাতুল ভ্রাতা শ্বশুর মিত্র শুভকাঙ্খিদের উপস্থিত দেখতে পেলেন।
তান্ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্ বন্ধুনবস্থিতান্ ।
কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ ।। ২৭

অর্থ-যখন অর্জুন সকল রকমের বন্ধু এবং আত্মীয় স্বজনদের যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থিত দেখলেন তখন তিনি অত্যন্ত কৃপায়াবিষ্ট ও বিষন্ন হয়ে বললেন।
অর্জুন উবাচ-
দৃষ্টেমান্ স্বজনন্ কৃষ্ণ যুযুৎসুন্ সমবস্থিতন্ ।
সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখঞ্চ পরিশুষ্যতি ।। ২৮

অর্থ-অর্জুন বলিলেন হে প্রিয়বর কৃষ্ণ আমার সমস্ত বন্ধু বান্ধব এবং আত্মীয় স্বজনদের এমন ভাবে যুদ্ধাভিলাষি হয়ে আমার সামনে অবস্থান করতে দেখে আমার অঙ্গ প্রতঙ্গ অবশ হয়ে আসছে এবং মুখ শুস্কহয়ে উঠছে।
বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্ষশ্চ জায়তে ।
গান্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্ চৈব পরিদহ্যতে ।। ২৯

অর্থ-আমার সর্ব শরির কম্পিত ও কেশাগ্র রোমাচিত হচ্ছে। হাত থেকে গান্ডিব খসে পরছে এবং ত্বক যেন জ্বলে যচ্ছে।
ন চ শক্লোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ ।
নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব ।। ৩০

অর্থ-হে কেশব আমি এখন স্থির থাকতে পারছি না। আমি বিভ্রান্তী বোধ করছি,আমার চিত্ত উত্ভ্রান্ত হচ্ছে। হে কেশীদৈত্যহন্তা শ্রীকৃষ্ণ আমি কেবলই অমঙ্গ সুচক লক্ষন দর্শন করছি।
ন চ শ্রেয়োহনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে ।কৃষ্ণ ও অর্জুন
ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ ।। ৩১

অর্থ-হে কৃষ্ণ আত্মীয় স্বজনদের নিধন করা শ্রেয়স্কর দেখছি না। আমি যুদ্ধে জয়লাভ করতে চাইনা রাজ্যসুখ ভোগের কামনা করিনা।
কিং নো রাজ্যন গোবিন্দ কিং ভোগৈর্জীবিতেন বা ।
যেষামর্থে কাঙ্খিতং নো রাজ্যং ভোগাঃ সুখানি চ ।। ৩২
ত ইমেহবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাংত্যাক্তা ধনানি চ ।
আচার্য্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তথৈব চ পিতামহাঃ ।। ৩৩
মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ সম্বন্ধিনস্তথা ।
এতান্‌ ন হন্তুুমিচ্ছামিঘ্নতোহপি মধুসূদন ।। ৩৪
অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে ।
নিহত্য ধার্তরাষ্টান্ নঃ কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন ।। ৩৫

অর্থ-হে গবিন্দ আমাদের রাজ্যে কি প্রায়োজন, আর সুখভোগ বা জীবন ধারনেই বা কী প্রোয়োজন, যখন দেখছি যাদের জন্য রাজ্য ও ভোগ সুখের কামনা, তারা সকলেই এই রণক্ষেত্রে উপস্থিত? হেমধুসুদন যখন আচার্য্য পিত্রিব্য পুত্র, মাতুল শ্বশুর পৌত্র শ্যালক আত্মীয়স্বজন, প্রান ও ধনাদির আশা পরিত্যাগ করে আমার সামনে যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছে, তখন তারা আমাকে বধ করলেও আমি তাদের হত্যা করতে চাইব কেন? হে সর্বজীবসত্তার প্রতিপলক জনার্দন, পৃথিবীর তো কথাই নাই এমন কি ত্রিভুবনের বিনিময়েও আমি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত নই। ধৃতরাষ্টের পুত্রদের নিধন করে কি সন্তোষ আমরা লাভ করতে পারব?
পাপমেবাশ্রয়েদস্মান্‌ হত্বৈতানাততায়িনঃ ।
তস্মান্নার্হা বয়ং হন্তুুং ধার্তরাষ্ট্রান্ সবান্ধবান্ ।
স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব ।। ৩৬

অর্থ-এই ধরনের আততায়িদের বধ করলে মহাপাপ আমাদের আচ্ছন্ন করবে। সুতরাং ধৃতরাষ্টের পুত্রদের সংহার করা আমাদের উচিৎ হবে না। হে শ্রীকৃষ্ণ লক্ষ্মীপতি মাধব আত্মীয় স্বজনদের হত্যা করে কিলাভ হবে। এবং তা থেকে কেমন করে আমরা সুখী হব।
যদ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ ।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্‌ ।। ৩৭
কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্‌ ।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন ।। ৩৮

অর্থ-হে জনার্দন যদিও এরা রাজ্যলোভে অভিভুত হয়ে কুলক্ষয় জনিত দোষ ও মিত্রদোহ নিমিত্ত পাপ লক্ষ করছে না, কিন্তু আমরা কুলক্ষয় জনিত দোষ লক্ষ্য করেও এই পাপ কাজে কেন প্রবৃত্ত হব।
কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ ।
ধর্মে নষ্টে কুলং কৃত্স্নমধর্মোহভিভবত্যুত ।। ৩৯

অর্থ-কুলক্ষয় হলে সনাতন কুলধর্ম বিনষ্ট হবে এবং তা হলে সমগ্র বংশ অধর্মে অভিভুত হবে।
অধর্মা অভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রীয়ঃ ।
স্ত্রীষু দুষ্টাষু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্নসংঙ্করঃ ।। ৪০

অর্থ-হে কৃষ্ণ অধর্মের দ্বারা অভিভুত হলে কুলবধুগন ব্যভিচারে প্রবৃত্ত হয় এবং হে বাষ্ণেয় কুলস্ত্রীগন অসৎ চরিত্রা হলে অবাঞ্চিত প্রজাতি উত্পন্ন হয়।
সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ ।
পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিন্ডোদকক্রিয়াঃ ।। ৪১

অর্থ-অবাষ্ণিত বর্ন সঙ্কর সন্তান উত্পাদন বৃদ্ধি হলে কুল ও কুলঘাতকেরা নরকগামী হয়। সেই কুলে পিন্ডদান ও তর্পনক্রিয়া লোপ পওয়ার ফলে তাদের পিতৃ পুরুষরাও নরকে অধঃপাতিত হয়।
দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্নসঙ্করকারকৈঃ ।
উত্সাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ ।। ৪২

অর্থ-যারা বংশের ঐতিয্য নষ্ট করে এবং তার ফলে অবাষ্ণিত সন্তানাদি সৃষ্টি করে, তাদের কুকর্মজনিত দোষের ফলে সর্বপ্রকার জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং বংশের কল্যানধর্ম উত্সন্নে যায়। ফলে সনাতন জাতিধর্ম ও কুলধর্মও বিনষ্ট হয়।
উত্সন্নকুলধর্মানাং মনুষ্যণাং জনার্দন ।
নরকে নিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম ।। ৪৩

অর্থ-হে জনার্দন যাদের কুলধর্ম নষ্ট হয়েছে তাদের নিয়ত নরকে বাস করতে হয়, আমি পরস্পরাক্রমে শুনেছি।
অহোবত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যাবসিতাবয়ম্ ।
যদ্ রাজ্যসুখলোভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ ।। ৪৪

অর্থ-হায়! কী দঃখের বিষয় যে রাজ্য সুখের লাভের আশায় স্বজনদের হত্যা করতে উদ্যত হয়ে মহাপাপে প্রবৃত্ত হইতেছি।
যদি মামপ্রতিকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ ।
ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ।। ৪৫

অর্থ-প্রতিরোধ রহিত ও নিরস্ত্র অবস্থায় আমাকে যদি শস্ত্রধারী ধৃতরাষ্টের পুত্রেরা যুদ্ধে বধ করে তাহা হলে আমার অধিকতর মঙ্গল হবে।
সঞ্জয় উবাচ-
এবমুক্তার্জুনঃ সংখ্যে রথোপস্থ উপবিশৎ ।
বিশৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ ।। ৪৬

অর্থ-সঞ্জয় বললেন রনক্ষেত্রে এই কথা বলে অর্জুন ধনুর্বান ত্যাগ করে শোকভারাক্রান্ত চিত্তে রথোপরি উপবেশন করিলেন।

ওঁ তত্সদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষত্সু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
অর্জুন বিশাদযোগ নামক প্রথম অধ্যায়ঃ

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

এই পোস্টটিতে 3 টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Avatar BIKASH KANTI TALUKDER says:

    Thanks Verry Nice.

    • অমিত রায় অমিত রায় says:

      জয় গীতা। আপনাদের অনুপ্রেরনাই আমাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বেগবান হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

  2. Avatar বলরাম দাস রাজু says:

    জয় গীতা,,,, দাদা আপনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত,,, আপনাদের কার্যক্রমই সনাতন ধর্মকে এতটা সুমুজ্জল করে রেখেছেন,, বর্তমান সমাজে,,,,, আপনাদের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা থাকল।

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology