দোলযাত্রা

দোলযাত্রা

holi
সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা পালিত হচ্ছে আজ। বাংলাদেশে এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ নামেও পরিচিত।বিশ্বের অনেক অনেক স্থানে উৎসবটি শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে অধিক পরিচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা সহ আরও কয়েকটি স্থানে দোল উৎসব এবং উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে ‘হোলি’ নামে পরিচিত। এছাড়াও নেপালে এই উৎসব ‘হোলি’ নামে পরিচিত।কোনও কোনও স্থানে এ উৎসবকে বসন্ত উৎসবও বলা হয়।

আজ আমরা দোল উপলক্ষে এর ইতিহাস সম্পর্কে একটু জানি

দোল কি???

দোলযাত্রা-কে অনেকে সংক্ষেপে দোল বলে থাকেন।

ফাগুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসারেঃ ১৪ তম রাতের পরবর্তী দিন) দোলযাত্রা নামক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। যাকে অনেকে “বসন্তোৎসব”-ও বলে থাকে।

দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈষ্ণবীয় উৎসব। এটি ভারতের বিভিন্ন স্থানে (বহিঃবঙ্গে) “হোলি উৎসব” নামে-ও পরিচিত। তবে, প্রকৃতপক্ষেঃ এটি আসলে অনেকটা ভিন্ন ধরনের উৎসব; তবে মূল-বিচারে বলা চলে এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

আবার, এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু জন্ম-গ্রহণ করেন বলে একে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।

উদ্ভব কিভাবে???

এটি বৈষ্ণব মতানুসারীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে (হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী চার যুগের তৃতীয় যুগ) এই ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনের নন্দ কাননে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পুষ্পরেণু ছিটিয়ে তার সখী রাধিকা দেবী ও অন্যান্য ৩৩ কোটি (লক্ষ / হাজার) গোপী-গণের সাথে রং ছুরো-ছুরির খেলায় মেতেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে ‘আবির’।

যার অনুকরণ থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়।

কি-ভাবে পালিত হয়???

দোলযাত্রা-র দিন সকালে ভগবান কৃষ্ণ ও রাধিকা দেবীর বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নান করিয়ে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং ছুড়ো-ছুরি করেন।

অনেকেই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু-এর আবির্ভাব-তিথি উপলক্ষ্যে উপবাস থাকেন।

দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্নি-উৎসবের আয়োজন করা হয়। একে হোলিকা-দহন বা মেড়া-পোড়া নামে অভিহিত করা হয়।

উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়।

সনাতন হিন্দু ধর্মীয় আচার আচরণ-গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সার্বজনীন উৎসব হিসেবে এটি-ই স্বীকৃত। এই দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারী-পুরুষ / ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আবির ও গুলাল নিয়ে রং ছুরো-ছুরির খেলায় মত্ত হয়।

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology