গঙ্গা আগমনের ইতিহাস

গঙ্গা আগমনের ইতিহাস

গঙ্গারামায়ণ পড়ে আমরা গঙ্গা আগমনের যে ইতিহাস জানতে পারি তা সংক্ষেপে আপনাদের জন্য তুলে ধরে হল। রঘুবংশের রাজা সগরের ছিল ষাট হাজার পুত্র। সফল রাজা একদিন ভাবলেন অশ্বযজ্ঞ করবেন। এ যজ্ঞ হলে দেবতারা বিপদে পড়ে যাবেন। দেবরাজ ইন্দ্র রাতের আঁধারে অশ্ব চুরি করে পাতালের মুনির ঘরে রাখলেন। মুনি কিছু জানলোই না। এদিকে সকালে উঠে রাজা দেখলেন অশ্ব নাই। পুত্রদের সেই অশ্বই খুঁজে আনতে বললেন। সারা পৃথিবীতে খুঁজে না পেয়ে পুত্ররা পাতাল খুঁড়তে শুরু করে। পাতালে মুনির ঘরে অশ্ব দেখতে পাই। মহর্ষিকে চোর সন্দেহ করে তাঁরা তাঁর বহু বছরের ধ্যান ভঙ্গ করলে ক্রুদ্ধ মহর্ষি দৃষ্টিপাত মাত্র তাঁদের ভষ্ম করে দেন। সগর রাজার ষাট হাজার সন্তানের আত্মা পারলৌকিক ক্রিয়ার অভাবে প্রেতরূপে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। জানা গেলো পুত্ররা অভিশাপ মুক্ত হবে যদি দেবী গঙ্গা স্বর্গ থেকে নেমে এসে পুত্রদের ভেজাতে পাতালে আসতে রাজি হয়।

গঙ্গা দেবী ভীষন অহংকারী। রাজা সগর ত্রিশ হাজার বছর তপস্যা করেও গঙ্গা কে ধরায় আনতে পারলেন না। তাঁর মৃত্যুর পর তার সন্তান তপস্যা করে সেও পারেন নাই আনতে। সন্তানের প্রপৌত্র ভগীরথ তার আবার নিচের অর্ধেক শরীর বিকলাঙ্গ। সে তপস্যা করতে করতে ব্রক্ষ্মাকে খুশি করে ফেলে বর চায় দেবী গঙ্গাকে। ব্রক্ষ্মা উপায় বলে দেয় আগে মহাদেবকে খুশি করতে হবে।
তপস্যায় তাকেও সন্তুষ্ট করে ভগীরথ। এদিকে অহংকারী গঙ্গা বলে আমি নামবো তবে মহাদেবকে ভাসিয়ে দিবো স্রোতে।

মহাদেব মুচকি হাসে আর বলে তবু তুমি নামো। কৈলাসের চূড়ায় বসে থাকে মহাদেব। দেবী গঙ্গা স্বর্গ থেকে নামে আর মহাদেবকে ভাসাতে গেলে নিজেই মহাদেবের মাথার জটায় আটকে যায়। ভগীরথ মহাদেব কে অনুরোধ করে। মহাদেব ধীরে ধীরে জটা খুললে সাত ভাগ হয়ে গঙ্গা ধরায় ছড়িয়ে যায়। যেহেতু ভগীরথ গঙ্গার মর্ত্যাবতরণের প্রধান কারণ, সেই হেতু গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী। আর এক ভাগ যায় ভগীরথের পিছু পিছু।

গঙ্গার অপর নাম জাহ্নবী। কথিত আছে, মর্ত্যে ভগীরথকে অনুসরণ করার সময় গঙ্গা ঋষি জহ্নুর আশ্রম প্লাবিত করেন। মুনিও প্রতিশোধ নিতে গঙ্গার সব জল খেয়ে ফেলে। চারদিকে পানি নিয়ে হাহাকার। দেবতারা জাহ্নমুনিকে অনেক কষ্টে তুষ্ট করে গঙ্গাকে মুক্তি দিতে বলে। জাহ্ন তখন গঙ্গাকে বের করেন কানের ভেতর দিয়ে। একারনে গঙ্গাকে জাহ্নের কন্যা বলে অনেকেই।
আর গঙ্গার আরেক নাম তাই জাহ্নবী!

অন্তিমে কপিল মুনির আশ্রমের কাছে গঙ্গা দেবী এসে ৬০ হাজার রাজপুত্রের অস্থি ভাসিয়ে দিলেন। গঙ্গার পবিত্র স্পর্শে ৬০ হাজার প্রেতাত্মার সদ্গতি হল। সেখানেই তিনি সাগরে বিলীন হলেন। ভোগোলিক তথ্যে গঙ্গার উৎপত্তি গোমুখী শৃঙ্গ থেকে। আকাশ ( স্বর্গ ) থেকে পতিত মেঘের জল ও তুষার গলিত জল একত্রিত হয়ে গঙ্গা নদীর সৃষ্টি। গঙ্গা যেখানে অলকানন্দার সহিত মিলিত হয়েছেন সে স্থানের নাম দেবপ্রয়োগ। যেখানে যমুনা ও গপ্তা সরস্বতীর সাথে মিলিত হয়েছেন সে স্থানের নাম ‘প্রয়োগ’ বা ‘ত্রিবেনীসঙ্গম’। গঙ্গার সহিত গোমতী, ঘর্ঘরা, শোন, বরুণা, অসি, গণ্ডকী, কুশী, রূপনারায়ন ইত্যাদি বহু নদ নদী মিলিত হয়েছে । উত্তর ভারতের বহু তীর্থ যেমন হরিদ্বার, প্রয়োগ, কাশী, নবদ্বীপ, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট তীর্থ গঙ্গার ধারেই । গঙ্গা পাপানাশিনী, কলি কলুষ নাশিনী । হর হর গঙ্গে ।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology