ইচ্ছাকৃত অবৈধ বীর্য ক্ষয় রোধ অত্যাবশ্যক।

ইচ্ছাকৃত অবৈধ বীর্য ক্ষয় রোধ অত্যাবশ্যক।

84703368_122187265978778_7054145099738906624_o

একটি কলসীর নিচের দিকে একটি ছিদ্র আছে। এখন সেই কলসীতে যদি পুরো সমুদ্রের সমস্ত জল একসাথে ঢেলে দেওয়া হয় তারপরেও কলসীতে ১ ফোঁটা জলও সঞ্চিত হবে না। কিন্তু যে কলসীতে কোনো ছিদ্র নেই সেই কলসীতে ১ ফোঁটা – ১ ফোঁটা করে জল ঢাললেও সেটাতে সেই ১ ফোঁটা জলই সঞ্চিত হবে।

অর্থাৎ, যার ব্যয় নেই তার ক্ষুদ্র আয়ও পুঁজি হিসেবে জমা হয়।

তেমনি ভাবে যে বীর্য ক্ষয় করে, যার বীর্য ব্যয়ের পথ উন্মুক্ত তার অবস্থা সেই ছিদ্র যুক্ত কলসীর মত। সে যতই শাস্ত্র পড়ুক, কীর্তন করুক, যজ্ঞ করুক, যোগ ব্যায়াম করুক না কেনো! তার কোনো সঞ্চয় নেই, কোনো বৃদ্ধি নেই। তার ধীশক্তি, স্মৃতিশক্তি, বল বৃদ্ধি তো পায়ই না, বরং হ্রাস পায়।

কিন্তু যার কোনো বীর্য ক্ষয় নেই, যার বীর্য ব্যয়ের পথ রোধ করা তার প্রতি ফোঁটা বীর্য দেহে সঞ্চিত হয়ে দেহের শক্তি, মেধা বৃদ্ধি করে “ওজঃ” ধাতুতে রূপান্তরিত হয়ে তাঁকে দেবতুল্য করে তোলে।

আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুসারে, খাবার গ্রহণের ৫ দিন পর সেই খাবার ১ম ধাতু দেহ রসে পরিণত হয়, রস ৫ দিন পর ২য় ধাতু রক্তে পরিণত হয়, রক্ত ৫ দিন পর ৩য় ধাতু মাংসে পরিণত হয়, মাংস ৫ দিন পর ৪র্থ ধাতু মেদে পরিণত হয়, মেদ ৫ দিন পর ৫ম ধাতু অস্থিতে পরিণত হয়, অস্থি ৫ দিন পর ৬ষ্ঠ ধাতু অস্থিমজ্জায় পরিণত হয়, অস্থিমজ্জা ৫ দিন পর ৭ম ধাতু শুক্রে পরিণত হয়। অর্থাৎ, খাবার গ্রহণের পর সেই খাবার শুক্রে পরিণত হতে ৩৫ দিন সময় লাগে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এই শুক্র তথা বীর্য কতটা মূল্যবান! শুক্রই দেহের সার বস্তু, শুক্রেই থাকে জীবনীশক্তি। এই শুক্র তথা বীর্যকে যদি রক্ষা করে ধ্যান, প্রাণায়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা যায় তবে তা মস্তিষ্কে গিয়ে অষ্টম ধাতু “ওজঃ” তে পরিণত হয়।

যে ব্যক্তির দেহে ওজঃ ধাতু যত বেশি, সেই ব্যক্তি তত বেশি ধীশক্তি সম্পন্ন, বলবান, স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, আত্মাকে স্পষ্টভাবে দর্শনযোগ্য।

এটিই হচ্ছে মূলত ব্রহ্মচর্যের উদ্দেশ্য।

বীর্য ক্ষয়ের পথ বন্ধ করতে হবে, ব্যয় রোধ করতে হবে। তবেই বীর্য সঞ্চিত হয়ে পুরুষকে দেবতুল্য করে তুলবে।

নতুবা যতই জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করো, যতই ধ্যান, প্রাণায়ামের চেষ্টা করো না কেনো….ফলাফল সেই “০”।

ধার্মিক, জ্ঞানী ও চরিত্রবান হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্য ক্ষয় রোধ করা এবং ব্রহ্মচর্য পালন করা।

[বি:দ্র: ব্রহ্মচর্য পালন মানেই বিবাহ না করে থাকা নয়। বিবাহ করেও ব্রহ্মচর্য পালন করা যায়। বিস্তারিত জানতে স্বামী স্বরূপানন্দের “সংযম সাধনা” ও “বিবাহিতের ব্রহ্মচর্য” বই গুলো পড়তে পারেন]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন

সাবমিট

© বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ | সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Powered by Smart Technology